ওলহা পোড়া

Category: Sports Written by Md. Rafiqul Islam Hits: 5931

ষাটের দশকের রাজশাহীর ভূ-প্রকৃতির ধরণটা এখনকার সময় থেকে আলাদা ছিল। ডিপ টিউবওলের সেচ ব্যবস্থার অধীন সমতল মাঠের পর মাঠ ধান ক্ষেত আগে দেখা যেত না। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে মাঠ দেখে মনে হতো খাঁজকাটা টিলার মত। জুম চাষ করা টিলার মত মনে হতো। কয়েকটা টিলার নীচে জলা। জলা ভর্তি ঘাস, আমরা যাকে দাআম বলে চিনি। দাআমের উপর পানকড়ি হেটে বোড়াতো। টিলার লালমাটি আর মাথার উপর কাঁটা ঝোপ-ঝাড়সহ টিলাগুলোকে দেখতে খুব সুন্দর দেখাতো।

টিলার কাঁটা, ঝোপ-ঝাড় জমির আইল ধরে জমিতে গিয়ে গজাতো। প্রতি বছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কৃষকে এই কাঁটা, ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করে জমি ঠিক করে চাষাবাদে নামতে হেো। রাজশাহীর জনসংখ্যা ছিল খুবই কম। লাকড়ি গাছের অভাব তখনও হয়নি। কেটে ফেলা ঝোপগুলো উঁচু টিবির পাশে সারা বছর পড়ে থাকতো। জলাগুলোর পানি পৌষ মাসে কমে তলানীতে গিয়ে ঠেকতো। দাআম গুলো পানির অভাবে শুকিয়ে খড় হয়ে মাটিতে পড়ে থাকতো। দাআম তখনও পণ্য হয়ে উঠেনি।

জলার উপরে খানিকটা সমতল জমি, এখানে ধান চাষ হতো। টিবির উপরের বাদমী মাটিকে আমরা ডাঙ্গা বলি। ডাঙ্গার মাটি ধান চাষের জন্য ভালো না। বর্ষার শেষের দিকে এসব জমিতে ছোলা, সরিষা বোনা হতো। তিল, মুগ, তিসি, মাস কালাই এর চাষ করতেও দেখতাম। রাজশাহী অঞ্চলে কম বৃষ্টি হ হয়। এই আবহাওয়া ছোলার জন্য খুব ভালো।

ছোলাকে স্থানীয় ভাষায় ‘বুট’ বলা হয়। ষাটের দশকে রাজশাহীতে বেড়ে উঠা ছেলেদের জীবনে বুট ও আম এ দু'য়ের প্রভাব ছিল খুব বেশী। মাস কালাই এর ডাল দিয়ে মায়ের হাতের বুটের শাঁক রান্নার স্বাদ আজও ভুলতে পারিনি। শুধু বুটের শাঁক রান্নাও অমৃতের মত ছিল।

বুটের শাঁক রান্নার সবচেয়ে বড় ওস্তাদী ছিল শাঁকগুলোকে চিকন করে এক মাপে কাটা। সবাই কাটতে পারতো না। মা ছিলেন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। পাড়া-পড়সীদের শাঁক কেটে নেয়ার জন্য মার কাছে ধর্ণা দিতে দেখেছি। বুটের শাঁক কাটা জটিল শ্রমঘন ও সময় সাধ্য কাজ। তারপরও কোন দিন কাউকে ফিরিয়ে দেননি মা।

বুটের গাছগুলো হাটু সমান লম্বা, ঝোপের মত। ছোট অবস্থায় ডাটাসহ শাক তোলা না হলে গাছগুলো ঝোপের মত বড় হয় না। জমির মালিক একবেলা খাবার দিয়ে গ্রামের বিধবা মহিলাদের শাঁক তোলার কাজ করাতো। ১৯৬৫-এর পাক-ভারত যুদ্ধের পর রাজশাহী আর্থ-সামাজিক পরিবেশ বদলে যায়। ধনী শিক্ষিত পরিবারগুলো দেশ ছাড়লো। ভারত থেকে তার দশগুণ লোক এখানে এসে বাসা বাধলো। লাকড়ি খাবার সবকিছুতে টান পড়লো। টিলার ঝোপ, কাটা হঠাৎ উধাও হয়ে গেল। শুকনা দাম, বুটের শাক আর পড়ে থাকে না। ফেলনা কোন কিছু নয়। বরং একটা দামী পণ্য। চুরি করে শাক তোলার লোকের অভাব নাই। সেচ সুবিধার কারণে ছোলার চাষ এখন আর তেমন নাই। দু এক জায়গায় চাষ হলে গাছসহ শাঁক চুরি ঠেকাতে পাহারা বসাতে হয়।

মাঘ মাসের শেষের দিকে বুটের পাতাগুলো হলদে রং ধরে। ফলগুলো পুষ্ট হতে শুরু করে। আধা পুষ্ট ছোলার ফল থেকে দানা গুলো খুলে খাওয়ার আনন্দ আমরা কোন দিন ভুলতে পারবো না। বুটের গাছের পাতা আর ফলের উপর টক আঠা থাকে যাতে ধুলো আটকায়। খাওয়ার আগে গাছসহ ছোলাগুলোকে ভালো করে পানিতে ধুয়ে দিতে হয়। বুটের একটা ফলের মধ্যে দু থেকে তিনটা দানা থাকে। বুটের ফল হতে দানাগুলো দাঁত দিয়ে বাহির করার কৌশল খুব ছোট বেলায় সবার অজান্তে রপ্ত করে ফেলেছিলাম। বাহির থেকে আসা কারো পক্ষে এভাবে খাওয়া সম্ভব ছিল না। গোদাগাড়ীর এমবিবিএস ডাক্তার শামসুল হুদা সাহেব, তাঁর ছেলে আশরাফুল, এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার। সে আমাদের সাথে পড়তো। তাঁকে নিয়ে মাঠে বুট খেতে গিয়ে তার বুট খাওয়া দেখে অনেক মজা করে হেসেছি। কেন জানি আজ কাল এ ধরনের ছোট খাটো বিষয় নিয়ে আগের মত হাসতে পারি না। হাসতে পার ভালো হতো।

বুট আধাপাকা হলে ঝোপকাটার উপর গাছসহ পোড়ানো হতো। এ সময় 'ওলহা পোড়া' খাওয়ার ধুম পড়তো। চুলার পাড় থেকে ম্যাচ বক্স চুরি করে পকেটে পুরে, দুপুর গড়ানোর সাথে সাথে কয়েক বন্ধু এক সাথে হয়ে মাঠের দিকে রওনা দিতাম। একটা টিবির উপর একটু ফাঁকা জায়গায়। জলার পাশ থেকে শুকনো দাআম এনে তার উপর শুকনো কাঁটা ঝোপ সাজাতাম। পাশের জমি হতে আধাকাঁচা-আধাপাঁকা বুট গামছসহ এনে কাঁটার উপর বিছাতাম।

দিয়াশলাই-এর কাঠি দিয়ে শুকনো দাআমে আগুন দেয়ামাত্র দাআমের আগুনে কাঁটা গাছগুলো দাউ দাউ করে জ্বলতো। এ আগুন আধাপাঁকা-আধাকাঁচা বুটের গাছে আগুন ধরে বুট ভাজা হয়ে ছাই এর সঙ্গে মিশে থাকতো। এর নাম ওলহা। ছাই থেকে গরম দানা বুট বাহির করে মুখে পুরতে কি মজা তা অন্য কাউকে বোঝাতে পারবো না। 'ওলহা' পোড়ানোর জন্য দিয়াশলাই চুরি করে ধরা পড়েছি এবং মার বকুনিও শুনেছি অনেকদিন। খোলা বাতাসে দিয়াশলাই-এর কাঠি শেষে হয়ে গেলে আর 'ওলহা' পোড়ানো হয়নি। কষ্ট আর দুঃখ নিয়ে বাড়ী ফিরেছি। 'ওলহা' পোড়াতে গিয়ে জামা, লুঙ্গি আগুনে পুড়িয়েছি। খেতে গিয়ে আগুনে আঙ্গুল ফোস্কা পড়েছে। মুখে, শরীরে এবং জামা-কাপড়ে কালি মেখে বাড়ী ফিরে মা-বাবার বকা খেয়েছি আমরা সবাই। তবুও ওলহা পোড়ানো বন্ধ হয়নি। প্রতি বছর 'ওলহা' পোড়া আমাদের খেতেই হতো। এ ছিল আমাদের একটা নেশা।

ওলহা পোড়া খাওয়ার একটা ঘটনা না বললে সব কিছুই অসমাপ্ত থেকে যাবে, তাই না বলে পারছিনা। গোদাগাড়ী ডিসপেনসারির কম্পাউন্ডারের ছেলে আলাউদ্দিন, আমাদের সাথে পড়তো। তাঁর এমন মেধাবী ছাত্র, আমি আজো দেখিনি। হাতের লোদী লিখা ছিল মুক্তার মত সুন্দর। লোদী দারোগা সাহেবের মেয়েও আমাদের সহপাঠী। শামসুল হুদা ডাক্তারের ছেলে আশরাফুল, চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলে শফিক, কম্পাউন্ডার সাহেবের ছেলে আলাউদ্দিন, আমরা প্রায়ই মাঠে ওলহা পোড়া খেতে যেতাম। আমরা তখন গোদাগাড়ী পাইলট হাই স্কুলে ক্লাশ সেভেনে পাড়ি। আশরাফ ও দারোগা সাহেবের মেয়ে একই ক্যাম্পাসে থাকতো। মেয়েটিও আমাদের সহপাঠী। সে আশরাফ-এর কাজ জানতে পারে, আমরা প্রতিদিন বিকালে আমরা কোথায়, কি করতে যাই। একদিন দারোগা সাহেব গোদাগাড়ীর বাহিরে একটা কেইসের সাক্ষী দিতে গেছেন। ৩-৪ দিন পর ফিরবেন। মেয়েটি আলাউদ্দিন-এর কাছে বায়না ধরলো ও আমাদের সাথে ওলহা পোড়া খেতে যাবে। সঙ্গে ছিল শফিক। আলাউদ্দিন আমতা আমতা করলেও দারগা কন্যা সুন্দরী একজন মহিলাকে শফিক না করতে পারলো না। সে রাজী হয়ে গেল। এছাড়াও শফিক মেয়েটিকে ভালোবাসতো।

কোন মেয়েকে নিয়ে ওলহা পোড়া খেতে যাওয়া আমাদের এটাই প্রথম। সব জোগাড়-য্ন্ত্র শেষ করে ওলহায় আগুন ধরানো হয়েছে। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। হঠাৎ একটা ছোট ঘুর্ণি এসে ওলহার ঝোপটাকে ঠেলে নিয়ে ফেললো আলাউদ্দিন এর উপর। তাঁর লুঙ্গিতে আগুন ধরে গেল। তারপর সে কি চিৎকার, এ দৃশ্য আজও ভুলতে পারিনি। আলাউদ্দিন বুদ্ধি করে দৌড়ে গিয়ে জলার পানিতে গিয়ে আগুন নিভালো। তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। লুঙ্গি পুড়ে দু-তিনটা ফুটো হয়েছিল মাত্র। এত কিছুর পরও 'ওলহা পোড়া' খাওয়ার আনন্দে কোন ভাটা পড়েনি। খাওয়া-দাওয়া শেষে বাড়ি ফিরবো, আলাউদ্দিন বাধ সাধলো। বেলা থাকতে বাড়ী ফিরলে ধরা পড়ে বড় ভাইয়ের হাতে মার সে রাজি নয়। তাই বেলা থাকতে সে বাড়ী ফিরতে, সে রাজী হচ্ছিল না। রাতে একজন সহপাঠীকে মাঠে একা ফেলে আমরা চলে আসবো এটা কি ঠিক হবে। বেলা থাকতে বাড়ী না ফিরলে মেয়েটির জন্য ভালো হবে না। দারোগা সাহেবের কাছ থেকে আমাদেরও বিপদ আসতে পারে। কি আর করা, আমি আর আলাউদ্দিন ঢিবির তেঁতুল গাছতলায় সন্ধ্যা অবধি বসে রইলাম। মেয়েটাকে নিয়ে শফিক আর আশরাফুল ফিরে আসলো। রাজশাহীতে মাঘ মাসেও ভীষণ শীত পড়ে। রোদ আর ওলহা পোড়ার আগুনের তাপে ভিজা কাপড়েও আলাউদ্দিন শীত টের পায়নি। বেলা ডুবার পর দেখি আলাউদ্দিন ঠক্ ঠক্ করে শীতে কাঁপছে। ফাঁকা মাঠে ভিজা কাপড়ে দায় হয়ে পড়লো। আমরাও বাড়ি ফিরলাম অবশেষে। পোড়া লুঙ্গির জন্য মাসুল আলাউদ্দিনকে দিতে হয়নি। তাই বলে নিউমোনিয়া তাঁকে ছাড়েনি।

পরের দিন আলাউদ্দিন স্কুলে আসলো। নাক দিয়ে পানি ঝরছে। মাঝে মাঝে হাঁচি। তারপরের দিন সে স্কুলে এলো না। শুনলাম তার ভীষণ জ্বর। স্কুলে আসার পথে ওকে দেখতে গেলাম। দড়ির খাটিয়ায় শুয়ে আছে। তাঁর বাবা তাকে পেনিসিলিন-এর সুঁই ফুঁড়ছে। নিউমোনিয়ার ধকল সামাল দিতে তাঁর অনেক দিন লেগেছিল।

জীবন-জীবিকার তাগিদে দেশ-বিদেশ পাড়ি দিয়ে আবার দেশে ফিরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সহকারী সচিব হিসাবে চাকুরী করছি। প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবার গোদাগাড়ীতে সুলতান সাহেবের মাজারে একটা বিরাট মেলা বসে। গোদাগাড়ীর সবার কাছে এ মেলা একটি বিরাট আকর্ষন আছে। এ মেলাকে ঘিরে রয়েছে আমাদের অনেক স্মৃতি ১৯৭৪ সালের পর আর যাওয়া হয়নি। একবার এসে মেলা ঘুরে যেতে বললো বন্ধু-বান্ধব। নষ্টালজিয়া আমাকে ভীষণভাবে পেয়ে বসলো। উপেক্ষা করতে পারলাম না। ৩ দিনের ছুটি আর রবিবার একত্র করে মেলা দেখতে রাজশাহী এলাম। মেলার কলরব অনেক বেড়েছে, অনেক বেশী দোকানপাট, অনেক মানুষ। এত আগ্রহ নিয়ে শুধু মেলা দেখতে এসেও কোন আনন্দ পেলাম না। মেলা থেকে আমার প্রিয় চিনির 'হাকাবাকা' লাড্ডু কিনলাম। মুখে দিতেই বালু বালু লাগলো, খেতে পারলাম না। ফেলে দিলাম। পাশে দাড়ানো অর্ধ-উলঙ্গ মেয়েটি লাড্ডুটা তুলে নিয়ে পরম তৃপ্তিতে খেতে লাগলো। একটু এগোতেই চোখে পড়লো আমার সেই প্রিয় পাঁপড় ভাঁজা । এক সঙ্গে অনেক ক'টা কিনলাম। মুখে দিতেই পোড়া মবিলের গন্ধ। এবার ছুঁড়ে ফেললাম না। পাশে দাঁড়ানো একটা ছেলেকে দিয়ে দিলাম। পাশে দাঁড়ানো একজন পরিচিত ভদ্রলোক  বললো-
-'পাঁপড়-টাপর খেতে আপনাদের আর ভালো লাগবে না।' তার কথা শুনে অবাক হলাম।
বললাম, 'কেন'?
-'বিদেশে থেকে বার্গার-চিপস্‌ খেতে খেতে এসব আর ভালো লাগবে?।' বলে ভদ্রলোক একটা হাসি দিল। তখন আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়েছিল-
-'আমি বার্গার, চিপস্‌ খাই না। কিন্তু হাকাবাকা, পাঁপড় ভাঁজাও খেতে চেয়েছিলাম। পারলাম না।'
আমরা সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছি। কোন তফাৎ নাই গ্রামে কিম্বা শহরে।

ও আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলো। মেলায় আর ভাল লাগছিল না। হাঁটতে হাঁটতে বাড়ী ফিরছিলাম। সারাংপুর ব্রিজের কাছে একটা জমিতে কাঁচা-পাকা ছোলা দেখে ওলহা পোড়া খাওয়ার ভীষণ ইচ্ছে জাগলো।

পরের দিন বিকাল বেলা সারাংপুরের রফিক এবং তার আরও তিনজন বন্ধুকে নিয়ে মাঠে গেলাম। খাল, মাটির ঢিবি, কাঁটার ঝোপ-জঙ্গল, জলা, দাআম কোন কিছুই নাই। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সব। তার জায়গা দখল করেছে বিদ্যুতের খুঁটি, ডিপ-টিউবওয়েল, পানির ক্যানেল ইত্যাদি। বুট, সরিষা নাই, মাঠ জুড়ে কেবল ইরি ধানের আবাদ। ক্লাশ সেভেন পড়ুয়া ওলহা পোড়া খাওয়া বন্ধুদের মনে পড়লো। আলাউদ্দিন গোদাগাড়ীতে হিরনচি। হিরোইন টেনে গায়ে ঘাঁ হয়ে পঁচন ধরেছে। আশরাফ এর কথা আগেই বলেছি। শফিক রাজশাহীতে, ইদানিং রাজনীতিতে নেমেছে। একদিনের ওলহা পোড়া খাওয়া বান্ধবীটা কোথায় জানি না।

অনেক কষ্টে একটা বুট ক্ষেত খুঁজে পেলাম। রফিক বললো, 'বুট তোলা যাবে না'। আগের মত এখন আর কিছু্ই নাই। পারমিশন নিতে হবে। আশে-পাশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম জমিটা তালেব মিয়ার। আমার পরিচিত। পাশেই কোন জমিতে ডিপের ক্যানেল থেকে জমিতে পানি ধরছিল।

তাঁকে খুঁজতে বেগ পেতে হলো না। বলাতেই রাজী হয়ে গেল। এক গাল হেসে বললো- পোড়াবেন কি দিয়ে? দাআম, কাঁটার শুকনো ঝোপ, কিছুইতো নাই। পাওয়া যাবে না। তবে আগামী কাল কাঁটার ঝোপ, শুকনো খড় নিয়ে এসে 'ওলহা পোড়া' খেয়ে যেতে পারবেন। আজ ক'টা কাঁচা বুট তুলে ডিপের পানিতে ধুয়ে খেতে খেতে বাড়ী যান। রফিকের এক বন্ধু জমি থেকে ক'টা বুট তুলে ডিপের পানিতে যত্ন করে ধুয়ে আমার হাতে দিল। গাছ থেকে একটা ফল ছিড়ে দাঁত দিয়ে দানা বাহির করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পারলাম না। আমার জন্মগতভাবে পাওয়া সেই কৌশলটাও কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি। রফিকের তিন বন্ধু মিটমিট করে হাসছে।

পরদিন ঢাকায় ফিরলাম। 'ওলহা পোড়া' খাওয়া হলো না। ভালোই হয়েছে। খেলে হয়তো 'হাকাবাকা' বা লাড্ডুর মত বালি বালি লাগতো। ষাটের দশকের 'ওলহা' পোড়ার অমৃতের স্বাদটা পেতাম না। অমৃত স্বাদটা আজও রয়ে গেছে। আমি ওটা নিয়েই মরতে চাই।