'আমার আমি' এবং গণতন্ত্র

Category: Religion Written by Md. Rafiqul Islam Hits: 4740

আমি কে? কে আমি? চিন্তাটা মাথায় কিছুক্ষণ ঘুরপাক খায়। এক সময় ব্যস্ততার মাঝে হারিয়ে যায়। একেবারে তাড়াতে পারিনি। মাঝে মধ্যে ফিরে আসে। যন্ত্রনা থেকে মুক্তির আশায় অন্যের দ্বারস্থ হলাম। ইমাম মৌলভী ইয়াসিন সাহেব আমার সমবয়সী, আমার সংগে সম্পর্ক ভালো। তিনি জবাবে বললেন,
-    'মানুষ হচ্ছে আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ জীব;আশরাফুল মাখলুকাত।' এ আমি জানি। তারপরও জিজ্ঞাসা করলাম,
-    'তা'হলে সারা দুনিয়া জুড়ে মানুষগুলো নিজেদের মধ্যে মারামারি হানাহানি করছে কেন?"
জবাবে বললেন,
-    'আপনারাই ভালো জানেন? আমি লেখাপড়া কম জানা মানুষ। নামাজ, রোজা, মসজিদ নিয়ে থাকি। দুনিয়া দারির খবর তেমন রাখি না'।
-    'আল্লাহর শ্রেষ্ঠ জীব, কেন এসব করবে! বুঝি না'। খেদুক্তি করলাম।
মৌলভীসাহেব বললেন,
-    'শয়তান, বুঝলাম না শয়তান মানুষকে দিয়ে এসব করায়'।
কোন জবাব দিলাম না। ভাবছি মুসলমানদের মধ্যে মারামারি, খুনাখুনি হঠাৎ করেই বেড়ে গেল কেন? সবখানেই অস্থিরতা লেগে আছে। ইউরোপ-আমেরিকা তুলনামূলকভাবে শান্ত। শয়তান শুধু মুসলমানদের ঘাড়েই ভর করলো। শয়তানের মুসলমানদের এত পছন্দ কেন? ওদের ঘাড়ে ভর করে না কেন? শয়তান কি তাহলে ওদের ভয় করে? কেন করে? আলোচনায় বিষয়গুলো উঠলেই বলি,
-    'ওরা ভালো থাকলে, আমরা ভালো থাকতে পারি না, কেন?'
ইসহাক ডাক্তার তাঁর নিজস্ব ভংগীতে জবাব দেয়,
-    'ওরাই তো করাচ্ছে। বুঝলি না বোকাচোদা'।
-    'ওরা বললেই আমরা করবো, কেন?'
আমি হতাশা নিয়ে জিজ্ঞাসা করি,
-    'নাহিলে যে, টাকা দিবে না বে। টাকা না হলে, কি দিয়া দেশ চালাবি? কি খাবি?'
-    'আমরা না হয় টাকার ল্যাগ্যা ওদের কথা শুনি। মিশর, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এরা শুনে কেন?' আমার জবাবের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া,
-    'না হিলে ইরাক, আফগানিস্তান হবে যে বে!'
বুঝলাম তাঁর কথায় যুক্তি আছে। তবে এই যুক্তিই কি সব। আমরা আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ জীব। কে কি বললো, কথা নাই বার্তা নাই ঝগড়া-বিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়বো। এ কেমন আশরাফুল মাখলুকাত? ছোটবেলায় দ্রুত পঠণ বই-এর একটা গল্প প্রায় মনে পড়ে। গল্পটার সারমর্ম এমন,
'যুদ্ধে অনেক সৈনিক মারা গেছে। আহত আরও অনেকগুণ। কাঁঠফাঁটা রোঁদ। পিপাঁসায় গলা শুকিয়ে গেছে। একজনের পিপায় সামান্য পানি ছিল। মৃত্যুর সংগে লড়ছে এক সৈনিক। তাঁকে পিপার পানিটুকু পান করতে অনুরোধ করা হলো। তিনি জবাবে জানালেন,
-    'আমি ভালো আছি। আমার পাশের জনকে দেখ। তার  অবস্থা আরও খারাপ। তাঁকে পানিটা দাও। তারও একই জবাব। অন্যজনের কাছে গেলে ওনিও আরেকজনকে দেখিতে দিলেন। কারো পানি পান করা হলো না।'
গল্পটা শেষ হওয়ার সাথেই মাস্টারমশাই জিজ্ঞাসা করতেন,
-    'কেউ পানি পান করেনি কেন?'

আমরা সবাই হা করে তাকিয়ে থাকতাম। তিনি অংহং ভরে বলতেন,
-    'আমরা আশরাফুল মাখলুকাত। অন্যকে কষ্টে রেখে মানুষ কোনদিনই সুখী হতে পারে না। আশরাফুল মাখলুকাতের কাছে অন্যের কষ্টই বড়। নিজের কষ্ট, বড় নয়'।

সৈনিকগুলো সত্যই আশরাফুল মাখলুকাত। তাঁরা মরে প্রমাণ করলো। আমি আর ভাব জগতে যুদ্ধক্ষেত্রে ঘুরে বেড়াচ্ছি। মৃত সৈন্যের একটার পর একটা মুখ। মুখে চোখে প্রশান্তি।

মাষ্টারমশাই-এর চিৎকারে ভারচুয়াল জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে আসলাম। মাস্টামশাই ধমক দিচ্ছেন,
-    'কে ওর পেনসিল নিয়েছিস? এক্ষণি ফেরৎ দে। তা না হলে একটা একটা করে সার্চ করবো। যার কাছে পাওয়া যাবে, তাঁর পিঠের চামড়া তুলে নিবো। রাস টিকেট দিয়ে স্কুল থেকে বিদেয় করবো'।

আমরা সবাই চুপ। মাস্টারমশাই অনেকক্ষণ চিৎকার করলেন। কোন সাড়া না পেয়ে, ক্লাশের সবচেয়ে দুষ্টু মঞ্জুরকে ডেকে সার্চ শুরু করলেন। কোন কিছু পাওয়া গেল না। ঘন্টা পড়ে গেল। মাষ্টারমশাই ক্লাশ থেকে বিদায় নিলেন। সবকিছু শেষ হলো।

ভাবজগতে মৃত সৈনিকদের মাঝে যুদ্ধক্ষেত্রে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। তাই বিষয়টা জানা ছিল না। পাশে বসা মজিবুরকে জিজ্ঞাসা করলাম। ও পরে ডাক্তার হয়েছিল। কিছুদিন আগে আমাদের ছেড়ে দুনিয়া থেকে বিদেয় নিয়েছে। সে জানালো,
-    'পেনসিলটা বই-এর উপর রেখে আলম টয়লেটে গিয়েছিল। এসে দেখে পেনসিলটা নাই। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মাস্টারমশাইকে অভিযোগ করেছে। তাই 'এসব কান্ডকীর্তি ঘটে।

আশরাফুল মাখলুকাত অন্যের জন্য জীবন দিল তবুও পানি পান করলো না। মাষ্টারমশাই-এর কিছুর পরও পেনসিলটা পাওয়া গেল না। আলম ম্লান মুখে বাড়ি ফিরলো।

ঘটনাটা শোনার পর অবাক হলাম। শ্রেষ্ঠ জীব পরের কথা চিন্তা করে মরতে পারে। আমরা একটা পেনসিলের লোভ সামাল দিতে পারি না। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। সত্য আমরা কি মানুষ? না অন্য কোন জীব? মন বার বার জিজ্ঞাসা করে, আমরা বোধ হয় মানুষ না। পেন্সিল চুরি করি। হানাহানি করি, মারামারি করি। যদি কেউ বলে,
-    'তোরা এসব করছিস কেন?'
-    'ও বললো যে!' ও বললো যে, বলে পরের ঘাড়ে দোষ চাপাই।

'আমার আমি' হিসেবে যদি এসব করি তাহলে, আজকের গণতন্ত্রের জগতে 'আমার আমি' যখন বড় আমলা, মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি হবে তখন আমরা কি করবো? এসব করলে দেশের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

রাস্ট্রের আমি কৃষক, আমজনতা ছিলাম। সেন, পাল, ধনীরা শাসন করতো। কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। সেন ও পালদের সাথে মুঘল; মুঘলদের সাথে ইংরেজদের যুদ্ধে শাসনের পালাবদল হলো। 'আমার আমি'-এর কোন অসুবিধা হয়নি। সরকার, রাষ্ট্র, এসব ছিল রাস্ট্রের জায়গায়। আমরা ছিলাম আমাদের ফসলের মাঠ, গরু, ছাগল, মুরগী নিয়ে। ঝামেলা বাধালো আব্রাহাম লিংকন। সে বললো, আমার আমিও নাকি সরকারের অংশ।
তিনি জানান দিলেন,
-    ‘সরকার হবে জনগণের মধ্য হতে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য'।

এটাই নাকি শ্রেষ্ঠ শাসণ ব্যবস্থা। তিনি এর নাম দিলেন, "গণতন্ত্র"। ভারী মজা, আমিই প্রজা! আমি রাজা।

কারা রাজা হবেন? কিভাবে হবেন এ নিয়ে নানা ঝগড়া ফ্যাসাদ, মারামারি এখনও রয়ে গেছে। সুইজারল্যান্ডে সরাসরি গণতন্ত্র, আমেরিকায় আমেরিকান রাষ্ট্রপতি শাসিত, ব্রিটেন ওয়েস্ট মিনিস্টার, তারপরও সবই নাকি গণতন্ত্র। কোনটা ভালো কেউ জানে না।

লিংকন-এর সংগা অনুযায়ী সকল মানুষ সরকারের অংশ। প্রশ্ন দেখা দিল, সদ্য ভুমিষ্ঠ হওয়া শিশু কি সরকার নির্বাচন করতে পারবে? সে কি জনপ্রতিনিধি হতে পারবেন? সংগা অনুযায়ী হ্যাঁ। শুধু শিশু নয়, চোর, ডাকাত, কেউ বাদ যাবে না। শিশুর সরকার জনগণের সরকার হবে কি? সদ্য ভূমিষ্ঠ একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হলে, জনগণের সরকার হবে কি না জানি না। এ নিয়ে বিতর্ক করার কোন ইচ্ছে আমার নাই। এখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন আছে, গণতন্ত্রের সংগার প্রতিফলন সবকিছু রয়েছে। তবুও আমি একে গণতন্ত্র বলবো না। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য শুধু সংগাই যথেষ্ঠ নয়। এই সংগাকে কার্যকর করতে অনেক কিছু করার আছে। এজন্য দেশে দেশে আছে আইনী কাঠামো, পদ্ধতি, প্রক্রিয়া আরও অনেক কিছু।

১৮ বছরের নীচের শিশু। এদের আমার আমি নেই। এরা কাউকে নির্বাচিত করতে পারবে না। আদালত কর্তৃক ঘোষিত পাগলেরও আমিত্ব সৃষ্টি হয় না; এরাও নির্বাচনের আসে না। জনগণের জন্য কিছু করতে পরিপক্কতা লাগে। তাই জনপ্রতিনিধি হওয়ার বয়স ২৫ (পঁচিশ) বছর। এ নিয়েও অনেক মতভেদ আছে। কেউ বলে ঠিক। কেউ না। বাদরু ভাই একটু বেশী সোজা বলে ফেললো,
-    ‘এটা কথা হলো, আমি জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবো। জনপ্রতিনিধি হতে পারবো না। এটা হলো তোরঘে ফ্যাজলামি। বুঝছিস না, ফ্যাজলামি।

বললাম,
-    ‘বাদরু ভাই! কি করবেন এটাই আইন’। তাঁর সোজা জবাব,
-    ‘রাখ তো আইন। কোন কারণে ২৫ বছরের উপরের সব লোক মারা গেলে তখন কি করবি?’ বললাম,
-    ‘কিছুই করবো না। আর এমন কিছুই হবে না। হলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তাই থাকবে না’।

আগে জানতাম রাজার ছেলে রাজা হবে। এখন আমিও রাজা হতে পারি। রাজার ঘরে জন্ম নিতে হবে না। শুধু এলাকার লোকদের ভোট পেতে হবে। মন জয় করতে হবে। কিন্তু ভীষন কঠিন কাজ। বিচিত্র এই মানুষের মন।

রংপুরে বন্যায় বাড়ীঘর পানির নীচে। রাজশাহী কলেজের আমরা কয়েকজন পুরানা জামাকাপড়, মুড়ি, চিড়াগুড় সংগ্রহ করে ত্রাণ দিতে রংপুর গেলাম। নৌকায় করে ত্রাণ দিচ্ছি। একটা চালা ঘর। পুরোটাই পানির নীচে। চালার উপর হাড্ডিসার এক পঞ্চার্ধো বুড়ো বসে আছে। নৌকা থেকে তার দিকে মুড়ি, চিড়া গুড়ের প্যাকেটটা বাড়িয়ে দিলাম। বুড়ো চিড়াগুড় নেয়ার তেমন কোন আগ্রহ দেখালেন না। উল্টো অনুরোধ করলেন,
-    ‘একটা বিড়ি দে বাহে। বিড়ি টানতে না পারলে পেট ফেটে মারা যাবো’।

ত্রাণ হিসেবে বিড়ি দিতে হবে ধারণাতেও ছিল না।
-    ‘আমাদের সংগে বিড়ি নাই বাবা। পরের বার সংগে আনবো’। বলে বিদায় নিলাম।

ঠিক এমনি আর একটা ঘটনা বলি।
গোদাগাড়ীতে প্রতিদিন বাজার বসে। এখানকার লোকজনের সপ্তাহের হাটবারে সবকিছু কিনে রাখার প্রয়োজন ছিল না। গোদাগাড়ী বাজার থেকে ১০-১২ কিলো দূরের গ্রামের মানুষগুলোর হাটে হপ্তার সব মাল কেনা ছাড়া কোন পথ ছিল না। ঘনশ্যামপুর এমনি একটা গ্রাম। আমাদের আত্মীয় নন, তবে মায়ের খুব কাছের মানুষ এ বুড়ি; দাদী ডাকতাম। তিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে ঘনশ্যামপুরে থাকতেন। ছেলের টাইফয়েড, হাটে আসতে পারছে না। মা আমাকে দিয়ে বাজার সওদা পাঠালেন। সংগে দু’টো ডাব দিতেও ভুল করলেন না।

ঘনশ্যামপুর এসে পৌঁছলাম। বাড়ীর বারান্দায় পা রাখার সাথে সাথে বুড়ি কাঁউমাঁউ করে কাঁদলেন, আঁদর করে বসতে দিলেন। বাজার সওদা যত্ন করে খুলছেন, আর খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছেন। হঠাৎ মুখ খুললেন,
-    ‘পান-সুপারি আনিসনি, ভাই। পান-সুপারি ছাড়া আমার খাওয়া দাওয়া কয়েকদিন হলো বন্ধ প্রায়'।
বললাম,
-    ‘দাদী ভুল হয়ে গেছে’। জবাবে তিনি বললেন,
-    ‘বাড়ীর চাল ডাল আর ঘরের তরিতরকারী দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছিলাম। লবন, কেরোসিন, পান-সুপারির জন্য তোর মাকে কষ্ট দিতে হলো’। বড় অপরাধী মনে হলো। কথা দিলাম,
-    ‘কাল পাঠিয়ে দিবো, দাদী'। বলে বিদায় নিলাম। দুপুরে ভাত খাওয়ার জন্য বুড়ি পীড়াপিড়ি করলো। আমার ভালো লাগছিল না। রওনা দিলাম।

রংপুরের ডুবন্ত মানুষটার কাছে বিড়ি বড়, ঘনশ্যামপুরের বুড়ির কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পান-সুপারি। যে বিড়ি, পান-সুপারি দিবে, তাঁর জন্য সে সব কিছু করবে। তাঁদের কাছে গণতন্ত্র মানে বিড়ি, পান-সুপারি, চা। এদের কাছে, 'আমার আমি' বিড়ি, পানসুপারীর সংগে বিনিময়যোগ্য। ‘আমার আমি’ না থাকলে ভোট ভাতে কোন তফাৎ থাকে না। প্রার্থী কিনবে ভোটার বেচবে। এই বেচাকেনার বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা একাকার। এর মাঝে কেউ যদি বলে,
-    ‘ভোট বিক্রি করছেন কেন? এটা আপনার পবিত্র আমানত’।
জবাব পাবেন,
-    ‘এই ব্যাটা তুই কেরে? আমার ভোট আমি বেচবো তোর কি?’ পেট চোঁ চোঁ করছে। ব্যাটা বলে কিনা, পবিত্র আমানত। রাখ তোর আমানত'।

জবাবটা শুনে চমকে উঠি। মনের কোণে রফিক ভাই-এর কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দু'টো পুংতি বারবার মনে ভেসে উঠে।
"ভাত দে হারামজাদা!
নইলে মানচিত্র খাবো।"

রফিক ভাই-এর বক্তব্যের সাথে এদের কোন তফাৎ নেই। এখানে দেশ গণতন্ত্র বিপন্ন। 'আমার আমি' অস্তিত্বহীন। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। এটা সবচেয়ে বাজে কথা। এদের কাছে ভবিষ্যৎ নীল আকাশ ধরা ছোয়ার বাহিরে। এদের কাছে আছে শুধু বর্তমান। বর্তমানে দরকার বিড়ি পানসুপারির, না পেলে পেট ফেটে মারা যাবে। এদের ভবিষ্যৎ কি কাজে লাগবে? 'সুশাসন ভবিষ্যতে সমৃদ্ধি আনবে' এসব শুনতে চায় না। বলে,
-    'রাখেন এসব আজে বাজে কথা'।

অন্য পক্ষের কথা, ওরা বেঁচে তাই ভোট কিনি। কিনতে না পারলে জোর করে আদায় করি। এটা করা না গেলে ভোট দেয়ার দরকার নাই বলে তাদের তাড়িয়ে দেই। আমি ন্যাতা, জনপ্রতিনিধি নই, হতেও চাই না। ন্যাতার হাতে পড়ে জনগণ বুঝে গণতন্ত্রের আসল মজা। তারপর আন্দোলন, জ্বালাও-পোড়াও। বেন আলিরা দেশ ছেড়ে পালাই। সরকারী পেশীশক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করে। ক'দিন পর শুরু হয় গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের খেলা। গণতন্ত্র আসে গণতন্ত্র যায়। আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র কোথায়? কে আনবে? 'আমার আমি' জন্ম নেয়নি, জন্ম নেয়া 'আমার আমি' দেশ ছেড়েছে, বোধ হয় মারাও গেছে। কে খুঁজছে গণতন্ত্র?