|
25 July 2010
Posted in
Science & Technology
যুগ্ম (প্রশাসন)-এর হিসাবে আমার রুমে একটা কম্পিউটার ও প্রিন্টার আছে। ইউএনডিপির একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক আগেই কম্পিউটাগুলো ল্যান কানেকশন দিয়ে সংযুক্ত। ক্যাবেলের ত্রুটির কারণে আমার কম্পিউটার কানেকশনটি কাজ করে না। একটা সফটওয়্যার দিয়ে কম্পিউটার চালু থাকলে অনুমোদিত কিছু ডকুমেন্টস শেয়ার করা যায়। কমিশনে একটা ওরাকল স্টরেজ সার্ভার রয়েছে। যেখানে প্রায় ৬ কোটি লোকের ভোটার ডাটাবেইস। একটা বিশাল ডাটাবেইস-এর অধিকারী হলেও অবাক কান্ড আইসিটির কোন জনবল নাই।
সে সময়েই নির্বাচন কমিশন আইসিটিতে একধাপ এগিয়ে ছিল। নির্বাচন কমিশন সব কাজে রয়েছে কম্পিউটার ও প্রিন্টারের ব্যবহার। মজার বিষয় কমিশনের কোন টেবিল অব অর্গানোগ্রাম এন্ড ইকুইপমেন্ট নামক আইনানুগ কাঠামো নাই। প্রকল্পের অধীনে কেন যন্ত্রপাতি। এখনও কমিশনের রাজস্ব কাঠামোতে আসেনি। এক প্রকল্প হতে অন্য প্রকল্পে স্থানান্তরিত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেলে তিন তলার একটা কোনায় স্তুপ করা হয়েছে।
বারান্দায় একগাদা কাগজের স্তুপ। উপ-সচিব (সাধারণ)-কে ডেকে বললাম- “কাগজগুলো পুড়িয়ে ফেলেন। বা সের দরে বিক্রি দরে দিন। নিলামে দিন। যাইহোক একটা কিছু করেন"।
“স্যার! এগুলো আমার নয়, নির্বাচন শাখার। আমরা কিছু করতে পারবো না।“ উপ-সচিব, কাশেমের সাফ জবাব।
উপ-সচিব (নির্বাচন) মিহিরকে ডেকে বললাম, “মিহির একটা কিছু করেন। এসব আবর্জনার মধ্যে মানুষ থাকতে পারে না। অসুস্থ হয়ে পড়বে"।
মিহির তোতলাতে তোতলাতে বললো-“এখানে পল্লী-পৌর শাখার কিছু নথিপত্র আছে। দুই অধিশাখা মিলে দেখতে হবে। কোনগুলো ফেলে দেয়া যায়”।
মিহির অতিরিক্ত সাবধান। কোন কাগজপত্র সে ফেলতে বা পুড়াতে চায় না। কাগজগুলো পড়ে রইল। কালক্রমে স্তুপ বাড়তে থাকলো।
নস্ট আইপিএস, মনিটর, খালি টোনার, কম্পিউটার বারান্দায় ছড়িয়ে আছে। প্রকল্পের এডমিন-ফিন্যান্স এসিসটেন্টকে বললাম, “এগুলো এভাবে পড়ে আছে কেন?”
“আগের প্রকল্পের মালামাল। নষ্ট তাই ফেলে দেয়া হয়েছে”। জবাবে কামাল সাহেব জানালেন।
“এগুলো ফেলে দেন। আর যদি বেচা যায়, বেচে দেন" - আমি নির্দেশ দিলাম।
কামাল সাহেব আমতা আমতা করে জবাব দিলেন, “এগুলো কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তাই কমিশন বিক্রি করতে পারবে না”।
“হস্তান্তর করে দেন”। জোর দিয়ে বললাম।
“প্রকল্প শেষ না হলে এগুলো হস্তান্তর করা যাবে না”-কামাল সাহেব জানালেন।
“একটা কিছু করেন। আমি এগুলোকে আর এভাবে দেখতে চাই না”। জোরের সংগে জানালাম।
কয়েকদিন পর দেখি তিনতলার বারান্দায় একটা স্লাইড পার্টিশন দিয়ে একটা ঘরের মত করে সেখানে নষ্ট মালামালগুলো রাখা হয়েছে। ভালোই হয়েছে, বাহির হতে অন্ততঃ দেখা যায় না। তবে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
তেতলার বারান্দা দিয়ে হাঁটছি। দেখি এক বিরাট দেহী, তাঁর সংগে খোঁচা খোঁচা দাড়ি আর একজন মানুষ। ময়লা-কালি মেখে একাকার। চিনবার কোন উপায় নাই। মনে মনে ভাবলাম কোন ঠিকাদারের টেকনিশিয়ান হবে। কোন যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেছে তাই ঠিক করতে তাদের আনা হয়েছে। জানার কৌতুহল হলো। একটু সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই কিছুটা পিছু হটে গিয়ে দু'জনে সালাম দিলো।
“আপনারা ঠিকাদারের লোক? এখানে কি কাজ করছেন?” আমি জানতে চাইলাম।
“স্যার, আমি কমিশনের লোক। আমি সহকারী সচিব। ও প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর”। অতি বিনয়ের সাথে তাঁদের পরিচয়টা জানালো।
“তাহলে, আপনাদের এ অবস্থা কেন? আপনাদের নাম পরিচয় কি?” জানতে চাইলাম।
“আমার নাম সাবেদুর রহমান” – সহকারী সচিব জানালেন।
“আমার নাম গাজী মাসুদ” – কম্পিউটার অপারেটর জবাব দিল।
“আপনারা কি করছিলেন?” আবারো জানতে চাইলাম।
তারা দুজনে যা জানালো তার সারমর্ম হলো কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপিয়ারগুলো আগের প্রকল্পের অধীনে ৫ বছর আগে কেনা হয়েছিল। প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। আইসিটি সংক্রান্ত কাজকাম প্রায় বন্ধ। টিও এন্ড ইতে প্রকল্পের যন্ত্রপাতিগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই পরিবর্তন কোনটাই করা যাচ্ছে না। তারা ২/৩টি যন্ত্রের ভালো অংশগুলো নিয়ে অন্ততঃ একটা মেশিন সচল রাখার চেষ্টা করছেন। তাই এই অবস্থা।
“প্রকল্প হতে মেরামতের ব্যবস্থা করেন। অথবা নতুন যন্ত্রপাতি কেনেন”। উপদেশ দিলাম।
“একটা টিএ প্রকল্প ছিল। তাও বন্ধ হয়ে গেছে”। জবাবে তারা জানালো।
প্রকল্পেও টাকা নাই, রাজস্ব খাতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় কাজ কর্ম সচল রাখার জন্য এই ব্যবস্থা।
“এখানে প্রোগ্রামার, সহকারী প্রোগ্রামার নাই”। জিজ্ঞাসা করলাম।
“একজন প্রোগ্রামার ও একজন সহকারী প্রোগ্রামার পাবলিক সার্ভিস কমিশন রিক্রুট করে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত নিয়োগ হয়নি”। সহকারী সচিব জানালো।
একজন সাদা, চামড়ার লম্বা পাতলা লোক, ২ তলার খোলা জায়গায় একটার পর একটা সিগারেট জ্বালাচ্ছে, আর টান দিচ্ছে। পাশে একটু মোটা সাদা চামড়ার বিদেশী লোক দাড়িয়ে কথা বলছিল। তাঁদের দেখিয়ে বললাম- “প্রকল্প না থাকলে এরা কিভাবে কাজ করছে” - জানতে চাইলাম।
“জানি না, স্যার। শুনছি প্রকল্পটি নাকি আবার চালু হবে” - মাসুদ জবাব দিলো।
“প্রকল্পটি চালু করার দায়িত্ব বোধ হয় আপনার ঘাড়েই বর্তাবে”। সাবেদ সদুক্তি করলো।
ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ওয়েবসাইটে সকল তথ্য প্রকাশ, দেশব্যাপী কানিক্টিভিটি স্থাপন, আরো কত কি করা প্রয়োজন। কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ ছাড়া কাজগুলো আগানো যাবে বলে মনে হয় না। চিন্তাটা কিছুতেই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছিলাম না। প্রোগ্রামার, সহকারী প্রোগ্রামারদের নিয়োগ সংক্রান্ত নথিটি চেয়ে পাঠালাম। নথিটি দেখে অবাক হলাম। প্রায় ৩ মাস আগে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুপারিশ এসেছে। প্রসেস করতে হবে। ৬ মাসের মধ্যে প্রসেস করে নিয়োগ দেয়া না হলে এ সুপারিশেনের বৈধতা থাকবে না। কিন্তু নথিটি পড়ে আছে। নড়ছে না। কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় রেখে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিলাম।
সুপারিশসহ সারসংক্ষেপ তৈরী করে প্রদান উপদেষ্টার মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রস্তাব পাঠানো হলো। মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রস্তাব অনুমোদন করলেন। তাঁদের নিয়োগ দেয়া হলো। সহকারী প্রোগ্রামার যোগদান করলেও প্রোগ্রামারের দেখা নাই। অবশেষে প্রোগ্রামার যোগদান করলেন। তাঁদের বসার কোন জায়গা নাই। কাজ করার জন্য কোন কম্পিউটার বা টেবিল নাই। তাই তাঁরা বারান্দায় হেঁটে বেড়ান অথবা কোন কর্মকর্তার টেবিলের সামনে সময় কাটান।
অন্যদিকে সাবেদ আর মাসুদের ত্রিশংকু অবস্থা পুরানো যন্ত্রপাতি। প্রায় নষ্ট হয়। তাই সিইসি থেকে সহকারী সচিবের সার্বক্ষণিক ডাকাডাকি লেগেই থাকে।
“মাসুদ প্রিন্ট হচ্ছে না”। “মাসুদ ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছে না”। “মাউসটা কাজ করছে না”।
সাবেদ মাসুদ দৌড়াদৌড়ি করছেন। একটার পর একটা অভিযোগও আসছে, “মাসুদ একটা বেয়াদব, কথা শোনে না। সাবেদ-এর দেমাক বেড়ে গেছে, বসকে বস মনে করে না।" আরো কত কি? আমি শুনি, চুপ করে বসে থাকি।
“বিশাল লোক হয়ে গেছে, সাতবার ডেকেও পাওয়া যাচ্ছে না”। একজন সহকারী সচিবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বললাম, আমাদেরকেউ বুঝতে হবে। মাসুদ একজন মাত্র লোক। সবাই তাঁকে ডাকে। বেচারা কি করবে। সহকারী সচিব জবাবে বললো,“ না স্যার! তার দেমাক বেড়ে গেছে। প্রকল্পে চাকুরী তাতেই এই অবস্থা। রেভিনিউ বাজেটে চাকুরী করলে কি করতো আল্লাহই জানেন”।
তাঁর ক্ষোভ দেখে আমি বললাম, “চলেন তো দেখে আসি কেন প্রিন্ট হচ্ছে না”। দু’জনে একসংগে তাঁর রুমে গেলাম। সহকারী সচিব প্রিন্টারে কাগজ দিয়ে কম্পিউটারে যথারীতি প্রিন্ট কমান্ড দিলেন “দেখছেন স্যার, কোন কাজ হচ্ছে না”।
তাইতো বলে প্রিন্ট কানেকশনের মাল্টিপ্লাগের সুইচটার দিকে তাকিয়ে দেখি আলো জ্বলছে না। চাপ দিতেই কানেকশন আপ হলো। প্রিন্টার প্রিন্ট করতে লাগলো।, বললাম, “যন্ত্রের কানেকশন বন্ধ থাকলে কাজ করবে কেমন করে”। সহকারী সচিব কোন কথা না বলে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
“নিজে না চেক করে এমন একটা সাধারণ বিষয়ে মাসুদকে ডাকাডাকি করলে চলবে”। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটলো।
কোন কথা না বলে চলে এলাম। অহেতুক ডাকাডাকি কমলো না। প্রোগ্রামারদের কিছু সাপোর্ট প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করলাম। সাবেদ ও মাসুদের ডাকাডাকি কিছুটা কমলো।
সাপোর্ট টু দ্যা ইলেক্টোরাল প্রসেস ইন বাংলাদেশ প্রকল্পটি আরো বড় আকারে চালু করা হলো। ভোটার তালিকা তৈরীতে সহায়তা প্রদান করবে। কেমন ভোটার তালিকা ও মেথোডোলজী কি হবে, কি কি যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ লাগবে, যন্ত্রপাতির স্পেসিফিকেশন কি হবে এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন, প্রকল্প, রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি বিচার বিশ্লেষন শুরু করলো। নানা জনের নানা মত থাকলেও একটা বিষয়ে সবাই একমত, ভোটার তালিকা নির্ভুল হবে, ভোটারকে চিহ্নিত করার একটা সহজ উপায় থাকবে, কোন ডুপ্লিকেট ভোটার থাকবে পারবে না।
ছবিসহ ভোটার ডাটাবেইস তৈরী করে ম্যাচিং করার পর ভোটার তালিকা তৈরী করা হলে এ সমস্যা গুলোর অনেকটাই থাকবে না। মোস্তাফিজ সবাইকে জানাবেন।
জাতীয় পর্যায়ে জামিলুর রেজা চৌধুরী একটা প্রজেক্ট প্রপোজাল প্রধান উপদেষ্টার নিকট উপস্থাপন করলেন। সিদ্ধান্ত হলো ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরী করা হবে। প্রাথীদের তালিকা, তাদের মনোনয়ন, ফরম, সবকিছু ওয়েবসাইটে পিডিএফ আকারে প্রকাশ করা হবে। আমরা কাজ শুরু করলাম।
এসইপিবি প্রকল্পের অধীনে বিদেশী পরামর্শকদের পাশাপাশি বুয়েট এর প্রফেসর লুৎফুল কবির, রাসেল, রায়হান সাহেবকে নিয়োগ করা হয়েছে। পরামর্শকগন জানালেন এ সব করতে হলে ক্লায়েন্ট এন্ড, সার্ভার এন্ড, ম্যাচিং সহ নানা ধরনে সফটওয়্যার লাগবে। বড় বড় জাহাজ হলেই চলবে না। লাইটারেজ, নৌকা, ডিংগী অনেক কিছুই দরকার পড়বে। যখন যেটা লাগবে নিয়োগ হচ্ছে, কেনা হচ্ছে। প্রকল্পের কোন খবর নাই। ২০০৭ সনে এসইপিবি প্রকল্প হতে ৫০০ ল্যাপটপ, ৫০০ ফিংগার প্রিন্ট ষ্ক্যানার, ৫০০ ওয়েব ক্যাম, এবং ২৮০ টি জেনারেটর কেনা হলো। ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরীর জন্য ডাটা বেইস তৈরী করতে হবে। তথ্য ধারন, ফিংগার প্রিন্ট নেয়া, ছবি বসানো। এ সব কাজ করতে হলে সফ্টওয়ার লাগবে। আমাদের কাছে কোন সফ্টওয়ার নাই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, টাইগার আইটি, দোহাটেককে দিয়ে ৩টি ক্লায়েন্ট এন্ড সফ্টওয়ার তৈরী করিয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে ল্যাপটপ প্রতি ৫.০০ ডলার করে সফ্টওয়ারগুলো কেনা হলো। কথা ছিল বাকি সফ্টওয়ার সার্পোট টু টি ইলেক্টোরাল প্রসেস ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের পরামর্শকগণ তৈরী করবে। ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রনয়ন প্রকল্প রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন দিয়ে শুরু হলো। একজন ভোটার সখ করে ২/৩ জায়গায় ভোটার হয়েছেন। প্রথমবার তোলা ছবিটা ভালো হয়নি। অপারেটরকে রাজি করিয়ে আর একবার রেজিস্ট্রেশন করেছ্নে কেউ কেউ। এগুলো ভবিষ্যতে কত ভয়ংকর রুপ নিতে পারে ভোটার ও অপারেটর কেউই বুঝতে পারেননি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুরো কাজটার সংগে সংযুক্ত ছিল। সফ্টওয়ার সংক্রান্ত কাজ গুলো দেখাশোনা করতেন কর্নেল মোস্তাফিজ। মেজর জেনারেল শফিক সাহেব ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ গুলো কো-অর্ডিনেট করতেন। তাঁদের দু'জনের সংগে যোগাযোগ ছিল নিত্যদিনের। তাঁদের সংগে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রেখে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্প অনুমোদিত হলো। শুরুতে প্রকল্প পরিচালক হিসাবে কাজ করছি। অনেক কিছু কেনা কাটা করতে হবে। স্পেসিফিকেশণ তৈরী, দরপত্র তৈরী, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন হিসাব নিকাশের কাজ চলছে। ডেভিটদের দলে এস যোগ দিলেন আজিমুল হক রায়হান, বুয়েটের আশরাফুল আনাম এবং অধ্যাপক লুৎফুল কবির। এছাড়াও আরও ২জন জুনিয়র প্রোগ্রামার, কিছু ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। তাঁরা দিন রাত্রি কাজ করে ক্লাইন্ট এন্ডের একটা সফ্টওয়ার তৈরী করলেন। সফ্টওয়ারটি টেস্ট করা দরকার। কথা হলো রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২ টি ওয়ার্ডে টেষ্ট করা হবে।
মোস্তাফিজ বললেন অসুবিধা নাই। তবে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডাটা ক্যাপচার করা হলে পরে মার্জ করা যাবে না।
কমিশন জানতে চাইলেন:
‘ কি করতে হবে ?’’
- 'যে কোন একটি সফ্টওয়ার ব্যবহার করে ডাটা ক্যাপচার করতে হবে।' বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর পক্ষে কর্নেল মোস্তাফিজ জানালেন। সচিব নির্বাচন কমিশন বললেন, ইউনিকোডে কাজ করতে হবে। একটা ভালো ফন্ট দরকার। তা না হলে পরে বাংলায় ডাটাবেইস তৈরী করা যাবে না। প্রকল্প হতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে নিকস ফন্ট কনভার্টার তৈরী করা হলো। টাইগার আইটির সফটওয়্যার ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সফটওয়্যার ৮০০০ ল্যাপটপে ইনস্টল করা হলো। সারা দেশে ৭০ হাজার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করে ট্রেনিং দেয়া হলো।
পর্যায়ক্রমে কেনা হলো ল্যাপটপ, ওয়েভক্যাম, ফিংগারপ্রিন্ট স্ক্যানার, জেনারেটর। এক জেলা শেষ করে অন্য জেলায় কাজ শুরু করায় দক্ষ জনবল আর যন্ত্রপাতি গুলোর সঠিক ব্যবহারের কাজ গুলো অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ল্যাপটপ দিয়ে ক্যাপচার করা ডাটা পেনড্রাইভ এ করে সার্ভারে এনে রাখা হচ্ছে। শেষে জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন ভিত্তিক ৬০০ টি সিডিতে করে ডাটা সংরক্ষণ করা হলো।
নির্বাচন কমিশনের আসল কাজ ছিল ভোটার তালিকা তৈরী। এ কাজের জন্য মূখ্য হিসেবে জাতীয় পরিচিতি কার্ড দেয়া হলো। মূল্যটা ভালো কাজ করলো। তা না হলে সব ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে কষ্টকর হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র তেরীকে মাথায় রেখে নতুন প্রিন্টার, লেমিনেটিং মেশিন, পাউচ কেনা হলো। ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সমস্ত ডাটা ৬০০ টুকরা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে হস্তান্তর করেছে। ২ টেরাবাইট-এর একটা স্যান সার্ভার কেনা হয়েছে। ৬০০ টুকরা ডাটা ম্যান সার্ভারে ৮;০ সেন্টিগ্রেটে রাখা আছে।
কয়েকদিন আগে আইসিটি উদ্ভাবনী মেলা হয়ে গেল। নির্বাচন কমিশন মেলায় অংশ নিয়েছিল। প্রচুর ভীড় ছিল নির্বাচন কমিশনের স্টলে। পুরস্কার মিলবে জানতাম ফন্ট ও কন্ভাটারের জন্য ১ম সম্মাননা পাওয়া গেল। তবে প্রত্যাশা ছিল আরও বেশী। সংস্থাগুলো সার্ভিস চায়। সার্ভিস দিতে হলে কানেকটিভিটি দিতে হবে। কানেকটিভিটি দেওয়া যাবে, যদি ৬০০ টুকরার মার্জার, ক্লিনজিং করে একটা ডাটাবেইস তৈরী করা হয়।
মার্জার, ক্লিনজিং করার জন্য একটি সংস্থা এখন কাজ করছে। আইসিটির সাফল্য নির্ভর করছে তাদের উপর। তবুও শংকা হয়;
‘- টুকরাগুলো একটা করা যাবে তো ?
‘- ৫২ ভাবে লিখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিস্কার করে একটা ফরমেটে আনা যাবে কি ?
কাজগুলো এরা এখন করে দিলো বটে। পরে কি হবে? নির্বাচন কমিশনের জনবল এগুলোকে সচল রাখতে পারবে কি ? মাঝে মাঝে বর্তমান স্যান সার্ভারটাকে আগের ওরাক্যাল সার্ভারের মত পরিত্যাক্ত হিসাবে ভ্রম হয়। আৎকে উঠি, নিজেকে প্রশ্ন করি, আমরা পেরেছি কি ? কোন জবাব পাই না। শূন্যে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি ? কোন জবাব আজ ও মিলেনি।




Comments
লেখক বলেছেন:
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। বিষয়টি আমি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। Try to improve yourself by yourself. It is the best way.
RSS feed for comments to this post