Posted in
Education
গন্ডপাড়া গাঁয়ে কেটেছে ছোটবেলা। তখন গোদাগাড়ীর লোকজন চাকুরীবাকুরী করতেন না। যা দু’একজন সামান্য লেখাপড়া শিখতেন, তাঁরা বাড়ীর আশেপাশে মাষ্টারী করতেন। অভাব ক্ষুধা ছিল; কিন্তু কেউ শিকড় ছিড়ে গাঁ ছেড়ে বিদায় নিতেন না। বিদায় মানে মৃত্যু, এ ছাড়া অন্য কোন মানে তাঁদের জানা ছিল না। কেউ বিদায় নিতেন না।
মা-বাবা মেয়ে বিয়ে দিয়ে বিদায় করতেন। এ বিদায় বিয়ের আনন্দে কোথায় যেন ঢাকা পড়ে যেতো। বিদায়ের বেদনা মেয়েটাকে অজানা ভয়ে সন্ত্রভ করলেও অন্যদের মনে দাগ কাটতো না। কন্যাদায়গ্রস্থ পিতার কাছে এ বিদায়ে কোন বেদনার ছিল না। সানাই এর করুন সুর বাজলেও মনের গভীরে করুন সুর বাজতে দেখতাম না। কন্যার বাবার চোখে অশ্রু দেখেছি। কন্যার বিদায় বেদনা আনন্দকে গ্রাস করতে পারে নি।
হঠাৎ করেই বাবা বিনা নোটিশেই চলে গেলেন। কখন কোথা দিয়ে কিভাবে বিদায় নিলেন বুঝতেই পারলাম না। বিদায় নিলেন সবার অজান্তেই। এই প্রথম বিদায়ের আসল মানে বুঝলাম।
বড় হলাম। রবীন্দ্রনাথ এর কাছ থেকে নতুন করে বিদায়ের মানে জানলাম।
‘‘- যেতে নাহি দিবো হায়, তবু যেতে দিতে হয়।’’
‘‘- তবু চলে যায়,........................................।’’
রবীন্দ্রনাথ বিদায় নিচ্ছেন। তাঁকে বিদায় দেয় না। তবু চলে যেতে হয়। অবুঝ বিদায় দাতা, যেতে দিতে চায় না। আবার ধরে রাখার সাধ্যও তার নাই। তাই চলে যায়। চলে যেতে হয়।
‘‘- বাবা চলে গেলেন। কাঁদলাম।’’
‘‘- সময় চলে গেল। টের পেলাম না।’’
‘‘- বয়স চলে গেল। শরীর জানান দিচ্ছে। কি যেন চলে গেছে মনের অজান্তে।’’
প্রতিটা ক্ষণ কেউ বিদায় নিচ্ছে। বিদায় দিচ্ছি। এসব বিদায় দেয়া নেয়া মেনে নিয়েছি। সকাল বেলা হাঁটতে আসি, অফিসে যাওয়ার জন্য বের হই, সন্ধায় ঘরে ফিরি, কেউ জিজ্ঞাসা করে না। কেউ বলে না;
‘‘- যেতে নাহি দিবো।’’
ভাবি এগুলো বোধ হয় বিদায় নয়। বিদায় হলে, কেউ না কেউ বলতো,
‘‘- যেতে নাহি দিবো।’’
অফিসে যাওয়ার জন্য বের হবো, অন্য দিনের চেয়ে কয়েক মিনিট দেরী হয়ে গেছে।
বউ বললো;
‘‘- কি হলো ? আজকে অফিস যাবা না ?
জবাবে বললাম;
‘‘- যাবো তো বটেই। এক্ষুনি রওনা দিচ্ছি।’’
রাজশাহী কলেজে ভর্তি হলাম। ভর্তির সংগে সংগেই হলে সিট নির্ধারিত হয়ে আছে। লেপ তোষক, বালিশ, চাঁদর, জামা কাপড়, ব্যাগ নিয়ে রাজশাহী যাচ্ছি। মা বললেন;
‘‘- ভালো ভাবে থাকিস বাবা। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করিস।’’
আমি বিদায় নিলাম। বিদায় নেয়া হলেও মায়ের নাগালের বাহিরে যেতে হয়নি। প্রতিদিন গোদাগাড়ী থেকে শহরে লোক যাচ্ছে। লোক দিয়ে খবর নিতে পারেন। খবর দিতে পারেন। খবর পেলেই আমি চলে আসতে পারি। ইচ্ছে করলে মাও আমাকে দেখে যেতে পারেন। কোন প্রস্ত্তুতির দরকার নাই। এ বিদায়কে বিদায় বলে মনে হয়নি।
ঢাকা আসলাম। ঢাকা ছেড়ে উড়াল দিলাম বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায়।
মা বললেন;
‘‘- আর দেখা হবে কিনা জানি না বাবা। তোর বাবা চলে গেল। তুইও চলে গেলি।’’
মায়ের চোখে জল। ফুঁফরে ফুঁফরে কাঁদছেন। মাকে শান্তনা দিতে বললাম;
‘‘- মাত্র পাঁচ বছর তো মা। দেখতে দেখতে চলে যাবে। ডিগ্রীটা শেষ হলেই চলে আসবো।’’
মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন;
‘‘- আজ বারো বছর। তোর বাবা চলে গেছেন। জানি কোন দিন ফিরবেন না। আজও বেঁচে আছি বাবা। যাও ভালো ভাবে থেকো। আমি তোমার ফেরার আশায় থাকবো।’’
মা এক বুক যন্ত্রনা নিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে চেয়ে আছেন। কোন কথা বলতে পারলাম না। মনে মনে বললাম,
‘‘- মা, আমি সত্যই ফিরে আসবো।’’
পাঁচ বছর পর লেখা পড়া শেষ হলো। ক’দিন পর দেশে ফিরে আসলাম। গোদাগাড়ীতে বসে আছি। চাকুরীর জন্য আবেদন করি। ইন্টারভিউ দিতে ঢাকা আসি। ঢাকা আসার আগে মার কাছে বিদায় নিতে যাই। মা জানতে চান;
‘‘- কবে ফিরবি বাবা ?’’ জবাবে বলি;
‘‘- চাকুরী যোগাড় হলে তো আর এ ভাবে ফিরা হবে না। যতদিন হয় নি ততো দিন এই যাওয়া আসা করেই কাটাতে হবে।’’ মা একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেঁলে বললেন;
‘‘- কবে যে তোর একটা কিছু হবে ?’’ বুঝতে অসুবিধা হয় না। গোদাগাড়ী আর আমার নয়। মা আমাকে বিদায় দিতে চান। যেমন করে একজন কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা তাঁর কন্যাকে বিদায় দেন। এখন মার জন্য আমার বিদায় আনন্দের।
বেশী দিন গোদাগাড়ীতে থাকতে হলো না। চাকুরী নিয়ে কুমিল্লা চলে আসলাম। আসার সময় মা বিদায় দিলেন। জানতে চাইলেন;
‘‘- কবে ফিরে আসবি বাবা ?: জবাবে বললাম;
‘‘- ছুটি পেলেই এসে তোঁকে দেখে যাবো।’’ মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন;
‘‘- চিঠি লিখিস। ভালো ভাবে থাকিস।’’
‘‘- আচ্ছা।’’ আগের মতই শান্তনা দিলাম।
ছুটিতে বাড়ী আসি। ছুটি কাটিয়ে আবার কাজে ফিরে যায়। বাড়ী আসার দিন মা জিজ্ঞাসা করেন,
‘‘- আবার কবে যাবি।’’
‘‘- ছুটি শেষ হলেই যেতে হবে গে মা।’’
‘‘- ছুটিটা ক’দিন বাড়ানো যায় না। গাছের আম গ্যালা পাঁকতে আরও ক’দিন লাগবে যে বাবা।’’
জবাবে বলি;
‘‘- আম কিনে খেয়ে নিবো মা। তুই কষ্ট পাস না।’’
‘‘- কোথায় খাস কি খাস কে জানে বাবা। আমি নিজে খাওয়াতে পারলে শান্তি পেতাম।’’
জানি কথা বাড়ানো ঠিক হবে না। কথা বাড়ালে উনি কাঁদবেন। একটা উছিলা তৈরী করে মার কাছ থেকে উঠে আসি। দ্রুত ছুটির সময়গুলো শেষ হয়ে যায়। পুটলা পাটি গুটিয়ে বিদায় নেই।
যাওয়ার দিন বড় ভাই ডাংড়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ডে এসে ঢাকার গাড়ীতে তুলে দেন। মা হাঁটতে হাঁটতে বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত চলে আসেন। আমি বাসে উঠছি, মা তাকিয়ে আছেন। মনে হয় মা মনে মনে বলছেন,
‘‘- যেতে নাহি দিবো।’’
তবুও আমাকে চলে আসতে হয়। ক’দিন পরে সহকারী সচিব হিসাবে ঢাকায় সচিবালয়ে যোগ দিলাম। সচিবালয়ের মধ্যেই এক বিল্ডিং থেকে আর এক বিল্ডিং এ ঘোরা ফেরা। চাকুরী জীবনের শুরুর দিকে বিদায়ের সুর শোনার সুযোগ হয়নি। বিয়ে করেছি। বউ বাচ্চা নিয়ে ঢাকায় থাকি। পৌষ পারবনে গোদাগাড়ী যাই। মায়ের অবুঝ মুখ চোখের পানি দেখে ঢাকায় ফিরি। অফিস ট্যুরে মাঝে মধ্যে দু’চার দিনের জন্য ঢাকার বাহিরে, কখন সখনও দেশের বাহিরে যেতে হয়। কোন প্রোগ্রাম হলেই, বউ এর প্রশ্ন,
‘‘- কোথায় যাচ্ছো। ক’দিন থাকতে হবে ? ’’
জবাব শুনেই অনুরোধ;
‘‘- তাড়াতাড়ি চলে এসো। তুমি না থাকলে ছেলে মেয়ে নিয়ে একা একা ভালো লাগে না। কেমন যেন ভয় ভয় করে।’’
ব্যাগটা কাধে নিয়ে বাহির হওয়ার আগে বিদায় নিতে হয়;
‘‘- আমি আসি।’’ বউ বলে;
‘‘- ভালো ভাবে যেও। গিয়েই টেলিফোন করো।’’
ছেলে মেয়ে জানতে চায়;
‘‘- বাবা কবে আসবে।’’ তাড়াতাড়ি জবাব দিয়ে বাড়ী থেকে বের হই। ওদের করুণ মুখ দেখতে ভালো লাগে না।
তর্জনী মধ্যমার ফাঁকে ব্যানসনের শলা একে অপরের অবিছেদ্য অংশ ছিল। আংগুলের ফাঁক থেকে ব্যানসন শলা বিদায় নিবে কোন দিন ভাবতেও পারতাম না। খেলার ছলে কিভাবে এসেছিল আজ আর মনে নাই। আমি নিজেই বিদায় দিয়েছি।
আমার বড় ভাই ইলিয়াস। অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য ঢাকা এসেছেন। অবস্থা ভালো নয়। নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। সব সময় অক্সিজেন সাপোর্ট লাগে। মাঝে মধ্যে নেবোলাইজার দিতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শে মহাখালি বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করলাম। সারাক্ষণ বড় ভাই এর বিছানার পাশে থাকি। এ সুবাদে আংগুলের ফাঁক থেকে শলাকে সাময়িক বিদায় দিতে হলো। অবস্থা ভালো নয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর আমাকে জানানো হলো এখানে কোন চিকিৎসা সম্ভব নয়। মৃত্যুর দায় এড়াতে অনেকটা জোর করেই আমাদের মহাখালি বক্ষব্যাধি হাসপাতারল থেকে আমাদের বিদায় করে দেয়া হলো। ভাইকে নিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে এলাম। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হলো। শ্বাসনালী থেকে টিস্যু নিয়ে কালচার করতে পাঠালেন। আনোয়ারা ডায়াগোনেস্টিক সেন্টারে টিস্যু কালচার করতে দেয়া হলো। বাহাত্তর ঘন্টা পর রিপোর্ট আনতে গেলাম। ডাক্তার রিপোর্টটা হাতে নিলেন। ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলাম;
‘‘- ডাক্তার সাহেব দয়া করে একটু বলবেন, রিপোর্টটা কি খুব খারাপ।’’
ডাক্তার সাহেব জানালেন;
‘‘- আমি বলতে পারবো না। একজন ভালো অংকোলোজিস্টকে দেখান। উনিই ভালো বলতে পারবেন।’’
এ কথা বলেই ডাক্তার সাহেব দ্রুত বিদায় নিলেন। এক কথায় বলতে গেলে পালিয়ে গেলেন। রিপোর্টটা হাতে নিয়ে খামটা খুললাম, রিপোর্টে লিখা আছে;
‘‘- কার্সিনভা গ্রেড-৪।’’ এর অর্থ জানি না,
তবে বুঝতে পারছি, খারাপ কোন সংবাদ। রাতে রিপোর্ট নিয়ে অংকলোজিস্ট এর কাছে গেলাম। রিপোর্ট কয়েকবার পড়লেন। বেশ চিমিত্মত মনে হলো। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন;
‘‘- রোগী আপনার কে হয় ?’’ জবাবে জানালাম;
‘‘- আমার বড় ভাই।’’ ডাক্তার জানালেন;
‘‘- শ্বাসনালীতে ক্যান্সার। ফুসফুসেও ছড়িয়ে গেছে। অবস্থা ভালো নয়। কেমোথেরাপী দিতে হবে।’’
‘‘- সুস্থ হওয়ার আশা আছে ?’’ জানতে চাইলাম।
‘‘- হায়াৎ মউত এর কথা আল্লাহ্ ভালো জানেন। আমরা চেষ্টা করতে পারি।’’
ভাইকে কেমোথেরাপী দেয়া হচ্ছে। তাঁকে নিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে আছি। শলার অভাবে আংগুলের মাঝখানটা উসখুশ করে। ক’টা টান দেওয়ার জন্য হাসপাতাল হতে বাহির হতে হয়। উঠবো এমন সময় ভাই করুন সুরে অনুরোধ করলো;
‘‘- চলে যাচিছস ? আমি জানি, বাঁচবো না। য’টা দিন বেঁচে আছি, কাছে থাক, ভাই।’’
ভাই এর করুন মুখটা উপেক্ষা করতে পারলাম না। এ ভাবে প্রায় মাস খানেক পার হলো। বেশ কয়েকটা কেমোথেরাপী দেয়া হয়ে গেছে। অবস্থার কোন উন্নতি হচ্ছে না। অংকলোজিস্ট আমাকে ডেকে বললেন;
‘‘- আর চেষ্টা করে লাভ হবে না। দেশের বাড়ী নিয়ে যান। সবার সংগে শেষ দেখা করার সুযোগ পাবেন।’’
পরের দিন একটা এ্যাম্বুলেসে করে ভাবী, ভাই এর মেয়েদের সাথে বড় ভাইকে দেশের বাড়ী পাঠালাম। গাড়ীটা চলে গেলো। আমি উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাঁটছি। কোটের পকেটে হাত দিলাম। একটা ব্যানসনের প্যকেটে, সংগে একটা ম্যাচ বাক্স।
কি মনে হলো, প্যাকেটটা শলাসহ মোচড় দিয়ে ভেংগে ম্যাচ বাক্সটাসহ ছুড়ে ফেললাম। ভাইকে বিদায় দিয়ে আংগুলের ফাঁক থেকে শলাকে বিদায় জানালাম।
একমাস পর খবর পেলাম বড় ভাই বিদায় নিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। গোদাগাড়ী গিয়ে তার মরদেহটাকে বিদায় দিলাম। নশ্বর দেহ রাখার কোন মানে হয় না। তবুও অবুঝ মন বলছিল;
‘যেতে নাহি দিবো হায়------------------
তবু যেতে দিতে হয়। তবু চলে যায়।’
বড় ভাই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। আজকাল গাড়ী নিয়ে বাড়ী যাই। আলাদা ভাবে গাড়ীতে তুলে দিতে কারো বাসষ্ট্যান্ডে আসার দরকার হয় না। মা আজও বারান্দায় দাঁড়িয়ে গাড়ীটার দিকে তাকিয়ে আমার চলে যাওয়া দেখেন। এখন আর কেউ জিজ্ঞাসা করে না, আবার কবে আসবো।
সচিবালয় ও প্রশাসন ক্যাডার একীভুত করা হলো। ১৯৯২ সালে বিসিএস প্রশাসন একাডেমী হতে আইন ও বিচার শেষ করলাম। সংযুক্তিতে চট্টগ্রাম হয়ে সিলেটে দুই মাস প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সিলেট তখনও বিভাগ হয়নি। তাই বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের শবক নিতে চট্টগ্রাম, শবক শেষ সিলেটে সংযুক্তি ‘অন দ্যা জব ট্রেনিং’। শুনেই বউ এর মেজাজ বিগড়ে গেল,
‘‘- দুই মাস সিলেটে কি করবা ?’’ জবাবে বললাম;
‘‘- জানি না। আগে যাই। তারপর বলতে পারবো।’’ জবাবে জানালো;
‘‘- জানা জানি নাই। এক সংগে এত দিন সিলেটে থাকার দরকার নাই। প্রতি সপ্তাহে ঢাকা চলে আসবা।’’
হ্যা না কোন কথা না বলে আবারো বললাম;
‘‘- দেখি সম্ভব হলে তাই করবো।’’
আসা যাওয়া করে ২ মাস সিলেটে কাটিয়ে দিলাম। এ আসা যাওয়াকে কোন দিন বিদায় মনে হয়নি। কেউ বলেনি;
‘যেতে নাহি দেব।’ কোন অনিশ্চয়তাও কোন দিন আমাকে পেয়ে বসেনি। এ গুলো ছিল নিছক যাওয়া আসা। সিলেট থেকে এসেই সার্ভে সেটেলমেন্ট কোর্সে যেতে হলো। যাওয়া আসার মাঝেই বাকি দুই মাসের সার্ভে সেটেলমেন্ট ট্রেনিং শেষ করলাম। এক মাস গাজীপুরের মৌচাকে তাবুতে; পরের মাস ঝিনাইদহ এর শৈলকুপায়।
১৯৯৬ সালে আবারও বউ,বাচ্চাদের ছেড়ে মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর যেতে হলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে। মাত্র দেড় ঘন্টার পথ। তারপরও মাসে একবারের বেশী ঢাকা আসতে পারতাম না। এসেছি, গেছি, বিদায় মনে হয়নি। ঘিওর এ চাকুরী শেষ করে আবার ঢাকায় আসলাম। উপ-সচিব, যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিবগিরি করেছি। নানা অফিস ঘুরলাম। শতশত মুখ, শতশত নাম। অনেক নাম আজ আর মনেও নাই। অনেক মুখও আজ স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। সবার অজান্তে এ মুখ গুলো এসেছে, চলে গেছে।
৩১ শে ডিসেম্বর ২০১১, আমার মাষ্টার মশাই এর দেয়া জন্ম তারিখ অনুযায়ী আমার বয়স ৫৭ বছর পূর্ণ হবে। নিয়ম অনুযায়ী এই তারিখেই আমার চাকুরী জীবনের মৃত্যু হবে। আমি চাকুরী জীবন শেষ করে বিদায় নিবো। জানি কেউ বলবে না,
‘‘- যেতে নাহি দেব।’’
আমার যাওয়া হয়নি। সরকার সরকারী চাকুরীজীবিদের অবসর গ্রহণের সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর পর্যমত্ম নির্ধারন করেছেন। আমি বেঁচে থাকলে আরও দু’বছর চাকুরীতে আছি। চাকুরী থেকে বিদায় না নিলেও আজ ২০১১ সালকে বিদায় দিচ্ছি। স্বাগতম-২০১২।




Comments
today, i read almost all your writing and i like to say that ur every writing is heart touching and informative.....
As salamu alikum.
It is a real history of life that is তাড়াতাড়ি চলে এসো। তুমি না থাকলে একা একা ভালো লাগে না.rest of life.
As salamu alikum.
when I read it, I feel it is real.So I have written:It is a real history of life that is তাড়াতাড়ি চলে এসো। তুমি না থাকলে একা একা ভালো লাগে না.rest of life.
Thank you sir.
sir,
please, you continue your writing.
RSS feed for comments to this post